মোঃ আবদাল মিয়াঃ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জমিজমার জের ধরে আজ শুক্রবার (১২ জুলাই) সকালে উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের তেলীআব্দা গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় ইমাদ উদ্দিন রকিব মিয়া পিতা হাজী আজিমুদ্দিন নামে একজন খুন ও হেলাল মিয়া নামে অপরজন (নিহতের বড় ভাই) ও এক নারী গুরুতর আহত হয়ে সিলেটে চিকিৎসাধীন আছেন।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, হামলাকারীদের বাড়ী ও নিহতের বাড়ির মধ্যবর্তী স্থানে কোনাগাঁও গ্রামে জমি নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ ব্যাপারে আদালতে মামলাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার দিন শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে জমি চাষের শেষ পর্যায়ে হামলাকারী ৭/৮ জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ দল দুই ভাইকে হঠাৎ করে হামলা করে। এসময় হেলাল ও রকিবকে একা পেয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপুরি আঘাত করতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলে ইমাদ উদ্দিন রকিব মৃত্যুবরণ করছে বলে স্থানীয়রা জানালেও হাসপাতালে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। আহত রইস উদ্দিন হেলালকে মারাত্মক আহত অবস্থায় প্রথমে শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার থেকে সিলেটে প্রেরণ করা হয়। একই সময়ে শিল্পী বেগম (৩৫) নামে একজন মহিলাও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ সময় জমিতে চাষকারি ট্রাকটরের চালক পার্শ্ববর্তী খারিজ্জামা গ্রামের লোকমান ভয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায় রকিব ও হেলালদের জমি নিয়ে কয়েক বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে বুরকুনি সরকারের ছেলেদের সাথে। বুরকুনি সরকারের সাত ছেলে তারা খুবই বখাটে। ঘটনার দিন তারা সহ অন্যদেরকে নিয়ে হামলা চালায়।
ঘটনাস্থলে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা সহ পিবিআই এর লোকজনও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল সার্কেল এএসপি আনিসুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরো একজন। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ মৌলভীবাজারে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতদের পক্ষে এখনো কোনো অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেনি, তবে ঘটনাটি যেহেতু সুস্পষ্ট তাই আমাদের লোকজন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা জিজ্ঞাসাবাদ জন্য দু’জন মহিলাকে থানায় নিয়ে এসেছি। এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
অনুলিখনঃ স’লিপক






